কুমার অজিত দত্ত-এর কবিতা
স্বপ্নের দুপুর
কুমার অজিত দত্ত
আমার সেই দুপুর মানেই সহজপাঠের
ছেলেবেলা...
আমার সেই দুপুর মানেই ফেরিওয়ালার
হাঁক...
আমার সেই দুপুরে মানেই ডাহুকপাখির
ডাক।
আমার সেই দুপুর মানেই জেগে ঘুমিয়ে
থাকা ...
আমার সেই দুপুর মানেই পাশের বাড়ির
খ্যাপা পাঁচুদার
হেঁড়ে গলায় গান গাওয়া:
'আমার সাধ না মিটিল আশা না পুড়িল
সকলই ফুরায়ে যায় মা।'
আমার সেই দুপুর মানেই বাবার
অপরাহ্ন-অবকাশ।
আপিস থেকে এসে সুযোগ পেলেই আচমকা
মাকে দিতেন চুমো।
মা আঁতকে বলে উঠতেন : হেই কী করতাস-অ
পোলা অখনও ঘুমায় নাই ---
আমার দুপুর মানেই মায়ের হাত মেশিনের
ঘটাং -ঘটাং ---
তিনি নিজের হাতেই সেলাতেন আমাদের বাড়ির
সব ফতুয়া আর পাতলুন ---
আমার সেই দুপুর মানেই জানলায় একটা মুখ
এসে হাজির হওয়া ---
ও পাড়ার মিষ্টি মাসি জানলার ওপারে
দাঁড়িয়ে হাঁকতেন মিনতি :
অ দিদি, আমরার বিমল্যার লাগিয়া একডা
পেন্তালুন বানাইয়া দিতাইন নি ...
মা হেসে জবাব দিতেন : দিয়া যাইও ...
আমার সেই দুপুর মানেই ঘুমের ভানে
বিকেলের কাল গোনা ---
পাশের চিলতে মাঠে বন্ধুরা যে আসবে
খেলতে ব্যাটবল ...
মানিক, অঞ্জন, সিন্ধু, ভোম্বল, নুন্দা, বোকা ...
ভোম্বলটা ফাটাইয়া বল করে,
রানই করণ যায় না ...
পিছনের কাঠি তিনটারে উড়াইয়া লইয়া যায় ---
আইজ দ্যাখাইয়া দিতে হইব ভোম্বলটারে ...
আমার সেই দুপুর মানেই ঝরে-পড়া
আকাশ কুসুম ---
তারপর হঠাৎ ঘুমিয়ে পড়া ...
যেন এক পশলা শান্ত বৃষ্টি ---
এক সময় মায়ের ডাকে জেগে ওঠা ---
মেঘের আড়ালে তখন রামধনু ...
হই হই করে বন্ধুদের সঙ্গে মাঠে নেমে পড়া ...
হায় !
সেইসব দুপুর যে আমার গীতাঞ্জলি, সঞ্চয়িতা, বনলতা সেনের সাঁকো পেরিয়ে হয়ে উঠেছে আজ
দীর্ঘ দুঃস্বপ্নেরই দুপুর ---
এখন যে শুধু, হুমকি দিয়ে তেড়ে আসে
আতঙ্কভরা, অশনিমাখা সব
ব্রেকিং ... ব্রেকিং .... ব্রেকিং নিউজের দুপুর ...
দুপুর ... দুপুর
হায় আমার স্বপ্নের দুপুর ...
কোন মন্তব্য নেই: